spot_img
Homeচিকিৎসা ও স্বাস্থ্যগজারিয়ার করোনা আক্রান্ত সাত্তার মোল্লার হাসপাতাল থেকে পলায়ন !! বিস্তারিত জানলেন...

গজারিয়ার করোনা আক্রান্ত সাত্তার মোল্লার হাসপাতাল থেকে পলায়ন !! বিস্তারিত জানলেন ছেলে সজিব…

গজারিয়া প্রতিনিধিঃ মুন্সিগন্জের গজারিয়ার করোনা আক্রান্ত আব্দুস সাত্তার মোল্লা কি কারনে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গ্রামে চলে আসেন, এই প্রশ্ন এখন সবার !

আমাদের প্রতিনিধি আবদুস সাত্তার এর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে তার ছেলে সজিব যা বলেন, তা হুবুহ তুলে ধরা হলোঃ

”আসলামুআলাইকুম, আমার বাবা আব্দুস সাত্তার মোল্লা কে গত ১৪/৪/২০ ইং তারিখে সু-চিকিৎসার জন্য ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে কভিড-১৯ বিভাগে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু দূঃখের বিষয় এই যে, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে কভিড-১৯ এর কোন সু-চিকিৎসা নেই।

আমি ফোন করে বাবার মুখে হাসপাতালের ব্যপারে এই জানলাম যে, একটি রোগীর থেকে অন্য একটি রোগীর দূরত্ব মাত্র এক হাত।৫০-৬০ জন রোগী মিলে একটা টয়লেট ব্যবহার করে।একটু ভেবে দেখুন তো যদি ৫০-৬০ জন রোগী মিলে একটা টয়লেট ব্যবহার করে তবে ঐ টয়লেটের অবস্থা কেমন হতে পারে এবং এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় অপেক্ষা করে টয়লেট করতে রোগীর অবস্থায় বা কতটুকু খারাপ হয়ে যেতে পারে। এই হলো ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে কভিড-১৯ বিভাগে রোগীর আইসোলোশন ব্যবস্থা।

এবার একটু চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে আসি, আমার বাবা ১৪/৪/২০ ইং তারিখে বিকাল ৫.০০ঘটিকা হতে ১৫/৪/৩০ ইং তারিখ বিকাল সাড়ে ৫ :৩০ ঘটিকা পর্যন্ত কোন ডাক্তার তো দূরের কথা একজন নার্সকেও দেখেননি।১৫/৪/২০ ইং তারিখ সকাল ৬ টায় বাবা তার পাশের B/১২ নম্বর সিটে একজন রোগীকে নিজ চোঁখের সামনে কাতরিয়ে মৃত্যুবরণ করতে দেখেন কিন্তু কোন ডাক্তার বা নার্স এগিয়ে আসেনি। প্রায় ২ ঘণ্টা পর ৩ জন লোক এসে পলিথিনে মুড়িয়ে লাশটি নিয়ে চলে যায়। আমার বাবার জায়গায় যদি আপনার বাবা হতো তখন আপনার মনের অবস্থা কেমন হতো আর আপনি কি চাইতেন আপনার বাবা এমন পরিবেশে থাকুক ভাবেন একটু ? ?

গত ১৫/৪/২০ ইং তারিখ বিকাল ৫:৪০ মিনিট এ বাবাকে ফোন করে অনুরোধ করি,বাবা তুমি একটু কাউন্টারে যাও দেখো কোন ডাক্তার বা নার্স আছে কি না কিছু খুলে বা বুঝিয়ে বলার জন্য। এ পরিবেশে থাকলে তুমি আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে।তখন আমার বাবা কাউন্টারে গিয়ে কাউকেই পেলেন না।

আমার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। বাড়ি থেকে হাসপাতালে যাওয়ার সময় আমার মা, বাবার ব্যাগে CMH এর চিকিৎসা বইটি সাথে দিয়ে দিয়েছিলেন। নিজের জীবন বাঁচাতে ঐ চিকিৎসা বইটি সাথে নিয়ে বাবা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকা CMH হাসপাতালে চলে যান । ঐখানের চিকিৎসক বাবাকে দেখেন। বাবাকে কিছু ঔষধ ও শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। তখন আমার বাবা বললেন আমাকে এখানে ভর্তি করান। তখন চিকিৎসক বাবাকে বললেন আপনার শারীরিক অবস্থা অনেক উন্নতির দিকে তাই আপনাকে এখানে ভর্তি হতে হবে না। বাসায় থাকবেন আর আমিষ জাতীয় খাবার এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাবেন।। তারপর ওনাদের তত্বাবধানে ঐখান থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করে বাবাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

বাড়িতে আসার পর ১৬/৪/২০ ইং তারিখ সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন করে বাবার শারীরিক অবস্থা জিজ্ঞাসা করেন এবং বাবা কে বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিতে বলেন।

এবার আপনারাই একটু বিবেচনা করে দেখুন আমার বাবার জীবন বাঁচানোর জন্য ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে চলে আসা ঠিক ছিল কি না!!!

আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের সবার দোয়ায় আমার বাবা এখন অনেকটাই সুস্থ। আল্লাহর রহমতে এবং আমার বিশ্বাস আমার বাবা খুব শীঘ্রই পুরোপুরি কভিড-১৯ মুক্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন “ইনশাআল্লাহ”।। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন।”

এই বিষয়ে সত্যতা যাচাইপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী এলাকাবাসীর।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments