বগুড়ার শিবগঞ্জে কৃষকরা ব্যস্ত বোরো আবাদে, চাষ হচ্ছে একুশ হাজার হেক্টর জমিতে

0
175

এমদাদুল হক, বগুড়া প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বোরো আবাদে। করোনা ভাইরাসের কারনে কজকর্ম বন্ধ থাকলেও থেমে নেই উপজেলার কৃষকরা। কাজের জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা বলে নিজের জমিতে নিজেই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অনেকে। কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে আগাছা নিরানী, সার প্রয়োগসহ নানা কাজ করছেন তারা।

তবে এসব কাজে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোনো প্রকার পরামর্শ বা সাহায্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের। কৃষকরা বলছেন এবার শিবগঞ্জে বোরোর ফলন ভালো হয়েছে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বোরো আবাদ চলছে। উপজেলার মাঠ প্রান্তর জুরে এখন সবুজের সমারহ। কয়েকটি এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।


উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জ উপজেলার বারোটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১০০০ হেক্টর জমিতে।

ইউনিয়ন ভিত্তিক দেখা যায়, শিবগঞ্জ ইউনিয়নে ২২২০ হেক্টর, ময়দানহাট্টা ইউনিয়নে ২৪৬০ হেক্টর, কিচক ইউনিয়নে ১৯৮৫ হেক্টর, আটমূল ইউনিয়নে ২২২০ হেক্টর, বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নে ১৫২০ হেক্টর, পীরব ইউনিয়নে ১৬১০ হেক্টর, মাঝিহট্ট ইউনিয়নে ১৭৪০হেক্টর, বিহার ইউনিয়নে ১০৫০ হেক্টর, রায়নগর ইউনিয়নে ১২০০ হেক্টর, মোকামতলা ইউনিয়নে ১৩৪০ হেক্টর. সৈয়দপুর ইউনিয়নে ১৮২০ হেক্টর. দেউলী ইউনিয়নে ১৭২৫ হেক্টর. এবং শিবগঞ্জ পৌরসভায় ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

আমন মৌসুমে ধানের উচ্চমূল্যের কারণে বর্তমান শুস্ক মৌসুমে বোরো রোপণে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ দেখা দিয়েছে আগের বছরের তুলনায় বেশি। উপজেলায় বীজ, সারের কোনো সংকট নেই। বোরো আবাদের জমির আওতা বাড়ানো ও উৎপাদন বাড়ানো আমাদের লক্ষ্য। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩০ টি বোরো প্রদর্শনী প্লোট করা হয়েছ্।ে ওই প্রদর্শনীতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি কৃষককে এক হাজার পাঁচশত করে প্রদান করা হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের চাষাবাদে উৎসাহ বৃদ্ধির জন্য ১৭ টি কমিউনিটি বীজ উৎপাদন ও প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হয়েছে। এতে কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছে। বোরো আবাদ মৌসুমে আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে থাকবে।


কৃষকদের অভিযোগ, বীজ, সার এবং কীটনাশকের মূল্য বেশি হওয়ায় আবাদের শুরুতে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এরপর ধানক্ষেতে পাম্পের সাহায্যে সেচ দিতে হয়। ডিজেলের মূল্য বেশি থাকায় কৃষকের তেমন লাভ থাকে না। কৃষি বিভাগ থেকে কোনো সহযোগিতাও পাওয়া যায় না।


উপজেলার সুলতানপুর নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই বলেন, গত বছর যে বীজ ধানের কেজি ছিল ৫০০ টাকা সেটা এ বছর আমাদের ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। আমরা যারা কৃষিকাজ করি তাদের সমস্যা অনেক। আবাদ করতে গেলে বীজ, সার, কীটনাশক বেশি দামে কিনতে হয়। ফসল উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করতে গেলে দাম কম পাই।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল মুজাহিদ সরকার বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করার চেষ্টা করছি। ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকদের সেবা দানের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে কৃষি সেন্টার খোলা আছে। কৃষকরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমাদের কল সেন্টার থেকেও তাদের সেবা নিতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here