পায়ের পেশীতে ব্যাথা হতে পারে ভয়ানক কোনো রোগের লক্ষণ

0
65

৩৮ বছর বয়সী সমীর সিনহা তার পায়ের পেছনের মাংসপেশীতে প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি করার সময় ব্যাথা অনুভব করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। একটু জোরে হাঁটলে ব্যাথা আরো বেশি অনুভুত হয়। তবে বসে পড়লে আর ব্যাথা থাকে না। অবশেষে একদিন তিনি ডাক্তার দেখাতে গেলেন। ডাক্তার তাকে বেশ কিছু টেস্ট করাতে দেন। টেস্টে ধরা পড়ে সমীর পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ (পিএডি)-তে আক্রান্ত। পিএডি এমন একটি লক্ষণ যা নির্দেশ করে যে আপনার ধমনী আপনার পায়ে যে রক্ত সরবরাহ করছে তা প্রদাহযুক্ত, দূর্বল বা অবরুদ্ধ। সময় মতো ডাক্তার দেখানোয় বেঁচে যান সমীর। আমাদের বেশিরভাগেরই হার্টঅ্যাটাকের তীব্রতা সম্পর্কে বুঝ থাকলেও লেগ অ্যাটাক সম্পর্কে আমরা একদমই সচেতন নই। পুনের রুবি হল ক্লিনিকের ভাসকুলার অ্যান্ড এন্ডোভাসকুলার সার্জারি বিভাগের প্রধান ড. ডি আর কামারকার বলেন, “সধারণত একজন রোগী তখনই পায়ের নিচের অংশের পেছনের মাংসপেশীতে এবং উরুতে ব্যথা অনুভব করেন যখন পায়ে রক্ত চলাচলের শিরা-উপশিরাগুলো সঙ্কুচিত হয়ে আসে বা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এটি লেগ অ্যাটাক হিসেবেও পরিচিত। পিএডির প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ঘটে। ব্লক যদি খুব তীব্র হয় তাহলে রোগীরা অবিরত জ্বালাপোড়ামূলক ব্যাথা অনুভব করেন। পায়ের আঙ্গুলগুলোর রঙ চটে যায় বা এমনকি গ্যাংগ্রিন দেখা দেয়। যার ফলে আবার পায়ের আঙ্গুলগুলো কালোও হয়ে যেতে পারে।” ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ধূমপায়ীদের মধ্যে এ ধরনের পায়ের ব্যাথা দেখা দিলে সঙ্গেই সঙ্গেই সতর্ক হতে হবে। ৫০০ মিটারের কম দূরত্ব হাঁটলে যদি আপনার পায়ে বা পশ্চাদ্দেশের মাংসপেশীতে ব্যাথা অনুভুত হয় তাহলে আজই আপনিও পিএডির ডাক্তারি টেস্ট করান। এর আরো কিছু লক্ষণ হলো, পায়ের নিম্নাংশের ত্বক শুকিয়ে যাওয়া এবং লোম পড়ে যাওয়া। জীবন-যাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই পিএডির ঝুঁকি কমে যাবে। এর মধ্যে রয়েছে, ডায়েট কন্ট্রোল, রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হাঁটাহাঁটির মতো সাধারণ ব্যায়াম। এছাড়া সাইকেল চালানোর মাধ্যমেও পিএডিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। মানসিক চাপও দেহের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সুতরাং তাও এড়িয়ে চলতে হবে। সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here