Friday, June 25, 2021
No menu items!
Home ইতিহাস ও ঐতিহ্য চৈত্র সংক্রান্তীর করুন ইতিহাস

চৈত্র সংক্রান্তীর করুন ইতিহাস

অনলাইন ডেক্সঃ চৈত্র সংক্রান্তীর ইতিহাস এক নিষ্ঠুর অত্যাচারের ইতিহাস। আর এই অত্যাচার শুরু হয়েছিল ১৪৮৫ সালে, রাজা সুন্দরানন্দ ঠাকুরের আমলে। তখন তাঁদের রাজপরিবারেই এটা পালন করা হত। পরে তা ছড়িয়ে যায় পূর্ববঙ্গের সমস্ত প্রদেশে।

জমিদাররা প্রজাদের খাজনা জমা দেওয়ার শেষ দিন স্থির করেছিলেন ৩০ চৈত্র। মরা মাসে এমনিতেই মানুষের হাতে টাকা পয়সা কম থাকত। তার উপর ফি বছর খরা, বন্যা আর ঘূর্ণিঝড়। খাজনা দেওয়ার জ্বালায় বহু প্রান্তিক চাষি বাধ্য হত আত্মহত্যা করতেও। এটা ছিল জমিদার-মহাজন ও ব্যবসায়ী সম্মিলিত ফাঁদ, যেখানে প্রতিটি মানুষ পা দিতে বাধ্য হতে। অভাবের তাড়নায় হোক বা নিত্যপ্রয়োজনে, দায়ে পড়ে এই তিন শ্রেণীর কাছে যেত এবং সর্বস্ব খুইয়ে ঘরে ফিরত তারা। প্রয়োজনে মহাজনরা পাইক পাঠিয়ে আদায় করতেন তাঁদের সমস্ত সুদ-আসল।

কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, বরিশালের জমিদাররা তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন। যদিও চড়ক সংক্রান্তিতে বড়শি ফোঁড়া বা বাণ ফোঁড়া ছিল প্রথমে অপেক্ষাকৃত নীচ সম্প্রদায়ের প্রথা। ব্রাহ্মণরা অংশগ্রহণ করতেন না। কিন্তু খাজনা আদায় করতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত পাশ হওয়ার জমিদাররা এই প্রথার বাজেভাবে ব্যবহার করেন। ১৮০০ সাল থেকে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত প্রায় এটা চলেছিল। এর মধ্যে ১৮৬৫ সালে ইংরেজরা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল নিষ্ঠুরতা দেখে( বাণ ফোঁড়া, বড়শি ফোঁড়া ইত্যাদি)।

কয়েকজন জমিদার ছিলেন আরও এগিয়ে। তাঁরা আবার প্রজাদের জমিদার বাড়িতে আকৃষ্ট করার জন্য জমিদার বাড়ির চত্বরে কবিগান, লাঠিখেলা এবং হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করতেন। কারণ এই সময় সমস্ত প্রজাদের আসতেই হত এখানে খাজনা দেওয়ার জন্য। জমিদারবাড়ি থেকেই আগেই ঘোষণা করা হত যে, সাল তামামির খাজনা সবটা শোধ করলে আলাদা করে কোনো সুদ লাগবে না। তাই দলে দলে মানুষ সেখানে উপস্থিত হতে এবং এই সুযোগে জমিদাররা বছরে একবারই মাত্র তাঁদের মুখমণ্ডলটি নিয়ে প্রজাদের সামনে সগৌরবে দর্শন দিতেন।

কিন্তু যারা খাজনা দিতে পারত না? তাঁদের কী হত? ফসল খারাপ হলে তাদের মাফ করে দেওয়া হত? সে ইতিহাস পাওয়া যায় না। পূর্ববঙ্গের জমিদাররা অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষদের নিয়ে লেঠেল দল তৈরি করতেন। সেই দলের ভয়ে বাঘে গোরুতে এক ঘাটে জল খেত। সেই লেঠেল দল গোটা জমিদারি এলাকায় প্রজাদের শাসিয়ে বেড়াত। পাশাপাশি, প্রায়ই ৩০ চৈত্রের মধ্যে পুরো খাজনা জমা দিতে বাধ্য করত।

চড়ক পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ, কৃষক শ্রেণী কেউই বৈশাখী নববর্ষের প্রতি আকৃষ্ট হয়নি। কারণ, ৩০ চৈত্রের ভয় তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিত। বরং বৈশাখী নববর্ষকে তৎকালীন সময়ে অনেকেই ব্যঙ্গের চোখে দেখতেন, তাই পণ্ডিত যোগশচন্দ্র রায়বিদ্যানিধি তাঁর ‘পূজা-পার্বণ’ গ্রন্থে লিখেছিলেন – “কয়েক বৎসর হইতে পূর্ববঙ্গে ও কলিকাতার কেহ কেহ পয়লা বৈশাখ নববর্ষোৎসবের করিতেছে। তাহারা ভুলিতেছে বিজয়া দশমীই আমাদের নববর্ষারম্ভ। বৎসর দুটি নববর্ষোৎসব হইতে পারে না। পয়লা বৈশাখ বণিকরা নূতন খাতা করে৷ তাহারা ক্রেতাদিগকে নিমন্ত্রণ করিয়া ধার আদায় করে৷ ইহার সহিত সমাজের কোনো সম্পর্ক নাই৷ নববর্ষ প্রবেশের নববস্ত্র পরিধানদির একটা লক্ষণও নাই।” যোগেশচন্দ্র রায়বিদ্যানিধির মতে, বিজয়া দশমীই আমাদের নববর্ষ। আবার অনেকের মতে, অঘ্রাণ মাসই নববর্ষের মাস। কিন্তু কোনোভাবেই বৈশাখী নববর্ষ আমাদের আদি নববর্ষের সূচনালগ্ন ছিল না।

তাই অনেকে বলেন, বাঙালির প্রকৃত নববর্ষ ছিল অঘ্রান মাসের আমন ধান ওঠার পর, অর্থাৎ পয়লা অঘ্রাণ। গ্রামে গ্রামে নববর্ষ পালন করা হত নবান্ন উৎসবের মাধ্যমে। আকবরের আমলে অঘ্রাণ থেকে খাজনা নেওয়ার সময় বৈশাখ মাসে নিয়ে যাওয়া হয়, সৌরবর্ষ ও চন্দ্রবর্ষের মধ্যে তারতম্য দূর করতে। তবে লর্ড কর্নওয়ালিসের আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা জমিদারি ব্যবস্থা পাশ করার পর, বৈশাখ মাসের নববর্ষ আর চড়ক সংক্রান্তি যেন সাধারণ মানুষের মনে উৎসবের আনন্দ নয়, ভয়ার্ত জীবনের সূচনা করে।

তথ্যসূত্র – নববর্ষ ও বাংলার লোক সংস্কৃতি, আখতার -উল- আলম।

RELATED ARTICLES

বাংলাদেশে উন্মুক্ত হলো “মেসেঞ্জার কিডস” – শিশুদের উপযোগী ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম

ইউরেকা অনলাইন ডেস্কঃ মহামারী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ মানুষ লকডাউনে বাড়িতে আটকে থাকায় শিশুদের কথা বিবেচনা করে শিশুদের উপযোগী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম মেসেঞ্জার...

ফুডব্যাংকিং খুলনা কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সবজি বিতরণ

মোঃ ইউসুফ শেখ, খুলনা প্রতিনিধিঃ পবিত্র মাহে রমজানে খুলনার নিম্নমধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষদের জন্য ফুডব্যাংকিং খুলনা কল্যাণ সংস্থা পক্ষ থেকে বিনামূল্যে...

লৌহজংয়ে নিখোঁজ রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা!!

স্টাফ রিপোর্টারঃ লৌহজংয়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ জীবন দাস (৪৯) নামক জনৈক রিকশাচালকের লাশ পরদিন বুধবার উদ্ধার করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

কোভিট-১৯: বগুড়ায় উপসর্গহীন এক ব্যক্তি আক্রান্ত

এমদাদুল হক, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় উপসর্গহীন এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বগুড়া শহীদ...

মুন্সীগঞ্জে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে মোবাইল কোর্ট অব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টারঃ রমজান মাসে বাজার মনিটরিং, ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে মুন্সীগঞ্জের প্রত্যেক উপজেলার প্রতিটি বাজারে সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে।

করোনা প্রতিরোধে লৌহজং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক কমিটির জরুরী সভা

আ স ম আবু তালেব, বিশেষ প্রতিনিধিঃ গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার বেলা ১২:৩০ মিনিটে ক‌রোনা ভাইরাস প্রতি‌রো‌ধে উপ‌জেলা স্বেচ্ছা‌সেবক ক‌মি‌টির জরুরী সভা...

বাংলাদেশে উন্মুক্ত হলো “মেসেঞ্জার কিডস” – শিশুদের উপযোগী ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম

ইউরেকা অনলাইন ডেস্কঃ মহামারী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ মানুষ লকডাউনে বাড়িতে আটকে থাকায় শিশুদের কথা বিবেচনা করে শিশুদের উপযোগী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম মেসেঞ্জার...

Recent Comments