spot_img
Homeগজারিয়াছোট বেলার বৈশাখ উদযাপন - মোহাম্মদ কামরুল হাসান

ছোট বেলার বৈশাখ উদযাপন – মোহাম্মদ কামরুল হাসান

খুব ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখের জন্য খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতাম। কারণটা নতুন বাংলা বছর উদযাপন বা বাংগালিপনা ছিলনা। তখন এতকিছু বুঝতামওনা, শুধু বুঝতাম একটা নতুন বছর আসছে, ওইদিন স্কুল বন্ধ থাকবে আর এই উপলক্ষে স্থানীয় বাজারে ও গজারিয়া মিয়া বাড়ীতে গলিয়া নামে একটা মেলা হবে! হ্যা! এই মেলাটাই ছিল আমার ছোটবেলার নববর্ষের জন্য অপেক্ষার মূল কারণ! আমাদের স্থানীয় ঐ এলাকায় বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে যে ছোট মেলাটি বসতো তাকে বলা হত গুলিয়া বাজার!
বাবা ছিল দেশের বাহিরে তাই চাচা/ নানা/দাদা-দাদীর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ১০,২০, ৩০/৫০ টাকা ম্যানেজ করে ছুটতাম এই গুলিয়া বাজারের উদেশ্যে। কিনতাম বাতাসা, নিমকি, কাচাঁ আম কাটার ছুরি, খেলনা পিস্তল, প্লাস্টিকের গাড়ী, কাঠের খেলনা বিশেষ করে হেলিকপ্টার, বাশিঁ, আরো অনেক কিছু (এখন নামই মনে পড়ছেনা!) কিনে মহা আনন্দে বাড়ী ফিরতাম (তখন অল্প টাকায় অনেক কিছু পাওয়া যেত, তার উপর আমাদের চাহিদাও ছিল কম)। মা এত অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য একটু বকুনি দিতেন। আমি পাত্তাই দিতাম না, মেতে থাকতাম আমার নতুন কেনা খেলনাপাতি নিয়ে।
আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা গ্রামে সাধারণ একটা পরিবারে অসাধারণ কিছু মানুষের সাথে। তাই আমার চাহিদা ছিল কম কিন্তু আনন্দ ছিল অনেক বেশী। আমরা অতি অল্পতে অনেক খুশি হয়ে যেতাম, যেটা এখনকার প্রজন্ম অনেক বেশী পেয়েও হয়না। এখনকার বৈশাখে অনেক রঙ, কিন্ত কোথায় যেন কি নেই! আমাদের ছোটবেলার বৈশাখে এত রঙ ছিলনা কিন্তু আমরা সূখী ছিলাম। অভাব ছিল কিন্তু ভালবাসার কোন কমতি ছিলনা।


আজ এই দিনে খুব করে মনে পড়ছে আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়া আমার একমাত্র হিতাকাংখী আমার দাদীকে, যার হাত ধরে প্রথম মেলায় যাওয়া, আমার দেখা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মহিলা আমার দাদীকে, যার কাছে যেকোন আবদার নিয়ে যাওয়া যেত এবং যিনি তার সীমিত সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চটা করতেন।
আচ্ছা ভালবাসার মানুষগুলী এত তাড়াতাড়ি চলে যায় কেন? দীর্ঘদিন গ্রামে যাওয়া হয়না, একেতো জীবিকার টানে শহরে থাকা, তার উপর ভালবাসার মানুষগুলোই নেই! তাই কার কাছে যাব? কেন যাব? এই ভাবনায় যাওয়া হয়না। আমি জানিনা গ্রামের সেই গুলিয়া নামক মেলা এখন আর হয় কিনা? হয় হয়তো, হয়তো আরো বড় পরিসরে, কিন্তু আমি নিশ্চিত তাতে আগের সেই প্রাণ নেই, কারণ আমরাই যে বদলে গেছি! আমরা এখন আর অল্পতে সন্তুষ্ট হইনা, কিসে যে আমাদের ভাল লাগে সেটাই জানিনা!
আমার খুব করে আমার সৈই হারিয়ে ফেলা ছেলেবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে, বৈশাখী মেলায় যেতে ইচ্ছা করছে, ইচ্ছা করছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম দাদী আমার দাদীর আচঁলে মুখ লুকাতে……
সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা…
(মোঃ কামরুল হাসান,
পরিচালক, আইডিয়াল কম্পিউটার একাডেমী)

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments