Homeবিশেষ আয়োজনঅপরাধ ও দূর্নীতিস্বামীর কোপে আঙুল হারাল এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া

স্বামীর কোপে আঙুল হারাল এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া

উরেকা অনলাইন ডেস্ক: স্বামীর বটির কোপে ডান হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সুমাইয়া নামে এক বাল্যবধূর।

সুমাইয়া এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। আঙুল বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়াই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সুমাইয়ার।সুমাইয়া গতকাল থেকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা গেছে, করোনার সময়ে (৭ মাস আগে) স্কুল বন্ধ থাকায় প্রবাসী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় সুমাইয়ার। সাইফুল মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের আমড়াতৈল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে এবং সুমাইয়া উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া এলাকার খাইরুল ইসলামের মেয়ে।সুমাইয়া বাবার বাড়িতে থাকায় গত রবিবার সাইফুল শ্বশুরবাড়িতে আসেন।

শুক্রবার ভোরে হঠাৎ ঘুমন্ত সুমাইয়াকে বটি দিয়ে কোপাতে থাকেন সাইফুল। নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে সুমাইয়ার ডান হাতের একটি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার চিৎকার শুনে মা নাছিমা বেগম ও বোন খাদিজা আক্তার শিমু আক্তার এগিয়ে গেলে সাইফুল তাদেরকেও কুপিয়ে জখম করে।

পুলিশ ও পার্শ্ববর্তী লোকজন তাদের উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে।সুমাইয়া গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তার পক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান জানিয়েছেন। ছোট বোন খাদিজা আক্তার শিমুও একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমাইয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমার সহপাঠীরা সবাই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আমার মা গার্মেন্টে চাকরি করে সংসার এবং দুই বোনের লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছে। একটি আশা নিয়ে লেখাপড়া করতেছিলাম। আর এখন আমি আঙুল হারিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় পরীক্ষা দিতে পারছি না।

’কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ‘সুমাইয়া পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি।’মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কোন পরীক্ষার্থী সিক বেডে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদন করেননি।

Courtesy : Bangladesh News 24

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments