করোনা ভাইরাস: প্রেক্ষিত জ্ঞানের অবহেলিত কান্ডারিবৃন্দ

0
46

স্টাফ রিপোর্টার:প্রথমে আসা যাক, ভাইরাস কি? এটি একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হচ্ছে বিষ। এদের সাধারণত দুই ধরনের বৈশিষ্ট্য। জীবীয় ও জড় বৈশিষ্ট্য। এরা মূলত একধরনের রাসায়নিক স্বত্বা। যে কোনো জড় পরিবেশে এরা নিষ্ক্রিয়, কেবল জীবদেহেই এরা সংক্রমণে সক্ষম। অন্যদিকে এরা সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণির মতো নির্বিচারে এদের হিংস্রতা দেখা যায় না অর্থ্যৎ এদের সংক্রমণ স্থান খুবই সুনির্দ্দিষ্ট। মানুষ কর্তৃক মানুষের আক্রমণের মতো নয়।
বহুল আলোচিত করোনা ভাইরাসেরও আক্রমণের সুনির্দ্দিষ্টতা আছে। সুতরাং তাদের দমন পদ্ধতিও অন্যদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত সহজ। এরা মানুষের শ্বাসনালী হয়ে ফুসফুসে আক্রমণ করে বলে আমাদের জানা। যেহেতু করোনা ভাইরাস সদ্য ভূমিষ্ঠ তাই তার সম্পর্কে আমাদের জানা জ্ঞান সংক্ষিপ্ত এবং চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন মারফতে করোনা সংক্রমণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি লাভের উদ্দ্যেশ্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানান উদ্যেগ গ্রহন করা হয়েছে। লক ডাউন পদক্ষেপ তার মধ্যে অন্যতম। ইতোপূর্বে সরকার দুই দফায় লক ডাউন এর সময় বৃদ্ধি করেছে এবং এর সফল বাস্তবায়নে প্রশংসনীয় কর্মসূচী গ্রহন করেছেন এবং চলমান আছে। আশা করি, অচিরেই ঘন কালো মেঘের অবসান হবে, বাস্তবতা কি তার জন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।
গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে আগামী ১১ এপ্রিলের পরেও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে।
এবার আসা যাক এই আলোচনায়, শুরুতে আমরা জেনে নিই বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা-কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যা অন্তত ৭০ হাজার [সূত্রঃ ঢাকা টাইমস]; বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪১৫৯টি [সূত্রঃ ঢাকা টাইমস]; ১৬১০৯টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়; ৭৫৯৮টি বেসকারি মাদরাসা [সূত্রঃ মাউশি] বেসরকারি কলেজের সংখ্যা ২৬৫২টি [সূত্রঃ ব্যানবেইস];বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৫ টি [ সূত্রঃ উইকিপিডিয়া]; বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা- ৬৫টি [উইকিপিডিয়া]। আপাত হিসেব মতে সবগুলো প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা দাঁড়ায়-১ লক্ষ ৬ শত আটাশি, সংখ্যাটি বর্তমানে আরো বেশি হতে পারে।
এই সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন এদেশেরই লক্ষ লক্ষ জ্ঞানের অবহেলিত কান্ডারিবৃন্দ এবং আরো সংশ্লিষ্ট আছেন লক্ষ লক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, সবমিলিয়ে প্রায় কোটি সংখ্যক মানুষ। এরা সবাই মাসে এনে মাসে খায় (যৎসামান্য ব্যতিক্রম)। এসব ব্যক্তিরা যে সব প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত আছেন, তাদের সম্মানি নামক মাসিক ভাতাটা আসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া মাসিক বেতন থেকে। অনেক প্রতিষ্ঠানই ইতোমধ্যে মার্চের মাসের বেতন প্রদান করবেন কিনা (!!!!) অনেকটাই অনিশ্চিত। যদিও এসকল প্রতিষ্ঠানের মালিক বা ট্রাস্টের কর্ণধারগণ অনেক বড় মাপের পুঁজিপতি। সেক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি মে মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকে তবে ‘ বুক ফাটে তো মুখ পা ফাটে না ’ স্বভাবের এই মানুষগুলোর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন হয়ে যাবে।
এমতাবস্থায়, মহামান্য প্রধানমন্ত্রী ও তৎসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট সবিনয় অনুরোধ করছি, জাতির বঞ্চিত এই সেবকদের ব্যাপারে কল্যাণকর কোনো বিকল্প চিন্তা করা যায় কি?????

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here