Wednesday, July 28, 2021
No menu items!
Home গজারিয়া ছোট বেলার বৈশাখ উদযাপন - মোহাম্মদ কামরুল হাসান

ছোট বেলার বৈশাখ উদযাপন – মোহাম্মদ কামরুল হাসান

খুব ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখের জন্য খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতাম। কারণটা নতুন বাংলা বছর উদযাপন বা বাংগালিপনা ছিলনা। তখন এতকিছু বুঝতামওনা, শুধু বুঝতাম একটা নতুন বছর আসছে, ওইদিন স্কুল বন্ধ থাকবে আর এই উপলক্ষে স্থানীয় বাজারে ও গজারিয়া মিয়া বাড়ীতে গলিয়া নামে একটা মেলা হবে! হ্যা! এই মেলাটাই ছিল আমার ছোটবেলার নববর্ষের জন্য অপেক্ষার মূল কারণ! আমাদের স্থানীয় ঐ এলাকায় বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে যে ছোট মেলাটি বসতো তাকে বলা হত গুলিয়া বাজার!
বাবা ছিল দেশের বাহিরে তাই চাচা/ নানা/দাদা-দাদীর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ১০,২০, ৩০/৫০ টাকা ম্যানেজ করে ছুটতাম এই গুলিয়া বাজারের উদেশ্যে। কিনতাম বাতাসা, নিমকি, কাচাঁ আম কাটার ছুরি, খেলনা পিস্তল, প্লাস্টিকের গাড়ী, কাঠের খেলনা বিশেষ করে হেলিকপ্টার, বাশিঁ, আরো অনেক কিছু (এখন নামই মনে পড়ছেনা!) কিনে মহা আনন্দে বাড়ী ফিরতাম (তখন অল্প টাকায় অনেক কিছু পাওয়া যেত, তার উপর আমাদের চাহিদাও ছিল কম)। মা এত অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য একটু বকুনি দিতেন। আমি পাত্তাই দিতাম না, মেতে থাকতাম আমার নতুন কেনা খেলনাপাতি নিয়ে।
আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা গ্রামে সাধারণ একটা পরিবারে অসাধারণ কিছু মানুষের সাথে। তাই আমার চাহিদা ছিল কম কিন্তু আনন্দ ছিল অনেক বেশী। আমরা অতি অল্পতে অনেক খুশি হয়ে যেতাম, যেটা এখনকার প্রজন্ম অনেক বেশী পেয়েও হয়না। এখনকার বৈশাখে অনেক রঙ, কিন্ত কোথায় যেন কি নেই! আমাদের ছোটবেলার বৈশাখে এত রঙ ছিলনা কিন্তু আমরা সূখী ছিলাম। অভাব ছিল কিন্তু ভালবাসার কোন কমতি ছিলনা।


আজ এই দিনে খুব করে মনে পড়ছে আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়া আমার একমাত্র হিতাকাংখী আমার দাদীকে, যার হাত ধরে প্রথম মেলায় যাওয়া, আমার দেখা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মহিলা আমার দাদীকে, যার কাছে যেকোন আবদার নিয়ে যাওয়া যেত এবং যিনি তার সীমিত সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চটা করতেন।
আচ্ছা ভালবাসার মানুষগুলী এত তাড়াতাড়ি চলে যায় কেন? দীর্ঘদিন গ্রামে যাওয়া হয়না, একেতো জীবিকার টানে শহরে থাকা, তার উপর ভালবাসার মানুষগুলোই নেই! তাই কার কাছে যাব? কেন যাব? এই ভাবনায় যাওয়া হয়না। আমি জানিনা গ্রামের সেই গুলিয়া নামক মেলা এখন আর হয় কিনা? হয় হয়তো, হয়তো আরো বড় পরিসরে, কিন্তু আমি নিশ্চিত তাতে আগের সেই প্রাণ নেই, কারণ আমরাই যে বদলে গেছি! আমরা এখন আর অল্পতে সন্তুষ্ট হইনা, কিসে যে আমাদের ভাল লাগে সেটাই জানিনা!
আমার খুব করে আমার সৈই হারিয়ে ফেলা ছেলেবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে, বৈশাখী মেলায় যেতে ইচ্ছা করছে, ইচ্ছা করছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম দাদী আমার দাদীর আচঁলে মুখ লুকাতে……
সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা…
(মোঃ কামরুল হাসান,
পরিচালক, আইডিয়াল কম্পিউটার একাডেমী)

RELATED ARTICLES

খুলনার ১৩৮ তম শুভ জন্মদিন উদযাপন

মোঃ ইউসুফ শেখ, খুলনা প্রতিনিধিঃ খুলনা জেলা হলো বাংলাদেশের  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রশাসনিক এলাকা এটি জাহানাবাদ নামেও পরিচিত। এটি খুলনা বিভাগে অবস্থিত। জন্মদিনের ইতিহাসঃ ১৮৪২...

করোনায় ভাড়াটিয়াদের ভাড়া পরিশোধের বাড়িওয়ালার হুশিয়ারী!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ লৌহজংয়ে বসবাসরত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত লোকজন সর্বনাশা নভেল করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী না পেয়ে অর্ধাহারে - অনাহারে...

লৌহজংয়ে জরুরী প্রয়োজন ব্যাতীত বাইরে না যাওয়ার নির্দেশ প্রশাসনের

আ স ম আবু তালেব, বিশেষ প্রতিনিধিঃ জরুরী প্রয়োজন ব্যাতীত চলাচলকারী সকল লোকজন, ইজিবাইক, মিশুক ও রিক্সা চালকদের সতর্ক করা হয়েছে।...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

কোভিট-১৯: বগুড়ায় উপসর্গহীন এক ব্যক্তি আক্রান্ত

এমদাদুল হক, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় উপসর্গহীন এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বগুড়া শহীদ...

মুন্সীগঞ্জে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে মোবাইল কোর্ট অব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টারঃ রমজান মাসে বাজার মনিটরিং, ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে মুন্সীগঞ্জের প্রত্যেক উপজেলার প্রতিটি বাজারে সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে।

করোনা প্রতিরোধে লৌহজং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক কমিটির জরুরী সভা

আ স ম আবু তালেব, বিশেষ প্রতিনিধিঃ গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার বেলা ১২:৩০ মিনিটে ক‌রোনা ভাইরাস প্রতি‌রো‌ধে উপ‌জেলা স্বেচ্ছা‌সেবক ক‌মি‌টির জরুরী সভা...

বাংলাদেশে উন্মুক্ত হলো “মেসেঞ্জার কিডস” – শিশুদের উপযোগী ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম

ইউরেকা অনলাইন ডেস্কঃ মহামারী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ মানুষ লকডাউনে বাড়িতে আটকে থাকায় শিশুদের কথা বিবেচনা করে শিশুদের উপযোগী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম মেসেঞ্জার...

Recent Comments